
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় ১২ বছর বয়সী এক কন্যা শিশুকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত কর্মকর্তার নাম খোরশেদ আলম, তিনি উপজেলার জাহাজমারা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ এবং উপ-পরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
ভুক্তভোগী শিশু এবং তার মায়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এই ঘটনার পর অভিযুক্ত এসআই খোরশেদ আলমকে জাহাজমারা তদন্তকেন্দ্র থেকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করে নোয়াখালী পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
ঘটনা ও অভিযোগের বিবরণ
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটির মা দীর্ঘ দিন ধরে জাহাজমারা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে রান্নার কাজ করে আসছিলেন। মায়ের সাথে শিশুটিও মাঝে মাঝে ওই তদন্তকেন্দ্রে যাতায়াত করত। অভিযোগ রয়েছে, এই সুযোগে এসআই খোরশেদ আলম শিশুটিকে প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে নিজের সরকারি বাসভবনে নিয়ে যেতেন এবং একাধিকবার ধর্ষণ করেন।
ধর্ষণের বিষয়টি যেন কেউ জানতে না পারে, সেজন্য অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা শিশুটিকে প্রথমে টাকা-পয়সার প্রলোভন এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেন বলে ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেছে।
পুলিশের বক্তব্য ও পদক্ষেপ
শনিবার (১২ জুন) রাতে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির হোসেন।
গণমাধ্যমকে তিনি জানান, শিশুটির মা ও ভুক্তভোগী শিশুর পক্ষ থেকে জাহাজমারা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।
ওসি আরও জানান:
প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে অভিযুক্ত উপ-পরিদর্শক (এসআই) খোরশেদ আলমকে তার দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে নোয়াখালী পুলিশ লাইন্সে ক্লোজড করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তের প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষী পুলিশ কর্মকর্তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।