
মানুষই হোক পরিচয়: দুর্নীতি ও বিভেদের বিরুদ্ধে না বলি বদলে দিতে চায় ববাংলাদে
যুবসমাজের ঐক্য, কর্মসংস্থান ও মানবিক চেতনায় গড়তে হবে বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ
দেশ গড়ার এখনো অনেক বাকি
এই বিশ্বাসকে হৃদয়ে ধারণ করে নতুন করে জেগে উঠতে হবে দেশের তরুণ প্রজন্মকে। জাত, ধর্ম, দল-মত নির্বিশেষে মানুষ হিসেবে এক হওয়ার আহ্বান এটাকে কেবল স্লোগান নয় সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলা উচিত।
সবার উপরে মানুষ সত্য—এই দর্শনকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন মানসিক পরিবর্তন। দুর্নীতি, ধর্মব্যবসা এবং সামাজিক বিভেদ
এই তিনটি বড়ো বাধা দূর করার উদ্যোগের নেয়া উচিৎ
দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে পরিবার থেকেই।
ঘুষ বা অনিয়মকে ‘স্বাভাবিক’ হিসেবে না দেখে প্রতিবাদ করতে হবে। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, অনলাইন রিপোর্টিং ও তথ্য উন্মুক্তকরণে অংশগ্রহণ—এসবকে তারা গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি, সততা ও জবাবদিহিতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই নৈতিক শিক্ষা জোরদার করার দাবি উঠেছে।
ধর্মকে ব্যবহার করে বিভাজন তৈরির বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে তরুণ সমাজ। তারা বলছে, ইসলাম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—সব ধর্মই মানবতার কথা বলে। তাই ধর্মকে ব্যবসা বা রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার বন্ধে সচেতনতা তৈরি জরুরি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ও উসকানিমূলক তথ্য প্রতিরোধে তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো উউচিত।
যুবকদের মতে, ভেদাভেদ দূর করতে হলে একসঙ্গে কাজ করতে হবে স্বেচ্ছাসেবা, সামাজিক কার্যক্রম ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে পারস্পরিক সম্পর্ক বাড়াতে হবে। প্রত্যেকে প্রত্যেকের তরে—এই চেতনায় মানুষে মানুষে বন্ধন দৃঢ় করার বিকল্প নেই।
দেশের বড় চ্যালেঞ্জ বেকারত্ব দূর করতে তরুণরা উদ্যোগী হতে চায় নিজস্ব কর্মসংস্থান তৈরিতে। স্টার্টআপ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরি, কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মক্ষেত্র বিস্তারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে নতুন শিল্প ও প্রযুক্তিভিত্তিক কর্মসংস্থান তৈরির দাবি জানানো হয়েছে
চাকা ঘুরবে পরিবর্তন
যুবসমাজ বিশ্বাস করে—হাত ধরে, কাঁধে কাঁধ রেখে এগিয়ে গেলে অসম্ভব কিছুই নয়। বিভেদ নয়, ঐক্যই হতে পারে দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি।
তাদের কণ্ঠে আজ একটাই আহ্বান—
এসো, আমরা মানুষ হই; নতুন করে সাজাই বাংলাদেশ।
এই জাগরণই হতে পারে একটি দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের সূচনা।