
মাজারের দিঘিতে কুমিরের হামলা: ৮ বছরের ফাতেমার মরদেহ উদ্ধার, শোকে স্তব্ধ বাগেরহাট

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খানজাহান আলীর মাজার-সংলগ্ন দিঘিতে কুমিরের হামলায় নিখোঁজ হওয়া শিশু ফাতেমার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১ জুন) রাত প্রায় ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে দিঘির মহিলা ঘাট এলাকায় গোসল করতে নামলে একটি কুমির তাকে টেনে পানির নিচে নিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই শুরু হয় ব্যাপক উদ্ধার অভিযান।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ফাতেমা (৭-৮) তার মানসিক ভারসাম্যহীন মায়ের সঙ্গে মাজার এলাকায় বসবাস করত। গোসল করতে নেমে পানিতে থাকা কুমিরের আক্রমণের শিকার হয় সে। প্রত্যক্ষদর্শীরা শিশুটির চিৎকার শুনে ছুটে এলেও কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই কুমিরটি তাকে গভীর পানিতে নিয়ে যায়।
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা, মাজার কর্তৃপক্ষ, ফায়ার সার্ভিস, স্বেচ্ছাসেবক এবং রেড ক্রিসেন্ট সদস্যরা উদ্ধারকাজে অংশ নেন। নৌকা নিয়ে দিঘিতে তল্লাশি চালানো হয়। উদ্ধার অভিযানের সময় কয়েকবার শিশুটিকে পানির বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তবে জীবিত উদ্ধার সম্ভব হয়নি।
ঘটনার খবর পেয়ে বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং উদ্ধার তৎপরতা তদারকি করেন।
মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম জানান, শিশুটিকে কুমির আক্রমণ করার পর দ্রুত পানির নিচে নিয়ে যায়। রাতভর উদ্ধার অভিযান চললেও দীর্ঘ সময় পর্যন্ত তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, মঙ্গলবার সকালে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এতে পুরো মাজার এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। তবে মরদেহ উদ্ধারের সময় ও পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তাই এ বিষয়ে প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া গেলে তা অধিক নির্ভরযোগ্য হবে।
উল্লেখ্য, খানজাহান আলীর মাজারের দিঘিতে বর্তমানে একটি কুমির রয়েছে। অতীতে একই দিঘিতে কুকুর টেনে নেওয়ার ঘটনাও আলোচনায় আসে। মাজারের কুমিরকে ঘিরে শত বছরের ঐতিহ্য থাকলেও সাম্প্রতিক এই মর্মান্তিক ঘটনায় দর্শনার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

মাজার এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। দিঘির ঘাটে দর্শনার্থীদের সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে। শিশু ও সাধারণ মানুষকে দিঘির পানিতে নামতে নিরুৎসাহিত করছে কর্তৃপক্ষ। স্থানীয়দের দাবি, ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে দিঘির চারপাশে আরও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
**(বিঃদ্রঃ মরদেহ উদ্ধারের সুনির্দিষ্ট সময় ও উদ্ধারকারী দলের পূর্ণাঙ্গ তালিকা সম্পর্কে এখনও কোনো সরকারি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।)**