
বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক তোফায়েল আহমেদ আর নেই
বাংলাদেশের রাজনীতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের সাহসী নেতা এবং প্রবীণ রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সোমবার (১ জুন ২০২৬) রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
জন্ম ও শৈশব
তোফায়েল আহমেদ ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা জেলার সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোরালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন মৌলভী আজহার আলী এবং মাতা ফাতেমা বেগম। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতি ও গণআন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে ওঠেন।
ছাত্রনেতা থেকে জাতীয় নেতা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এবং ১৯৬৭-৬৯ মেয়াদে ডাকসুর (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ) সহ-সভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে তিনি ছিলেন অন্যতম অগ্রণী নেতা। সেই ঐতিহাসিক সময়েই তিনি জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান-কে “বঙ্গবন্ধু” উপাধিতে ভূষিত করার ঘোষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদান
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তোফায়েল আহমেদ ছিলেন অন্যতম সংগঠক। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিব বাহিনীর নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং স্বাধীনতা অর্জনের আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও সাংগঠনিক দক্ষতা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছে।

রাজনৈতিক জীবন
স্বাধীনতার পর তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি একাধিকবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং বাণিজ্য মন্ত্রীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের অন্যতম মুখ এবং প্রেসিডিয়াম সদস্য।
ব্যক্তিগত জীবন
তোফায়েল আহমেদ স্ত্রী আনোয়ারা আহমেদকে হারান ২০২৫ সালে। মৃত্যুকালে তিনি একমাত্র কন্যা ডা. তাসলিমা আহমেদ জামান মুন্নিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।
মৃত্যু ও জানাজা
দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। সোমবার বিকেলে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর তাঁর মরদেহ নিজ জেলা ভোলায় নেওয়া হবে এবং সেখানেই দাফন সম্পন্ন করা হবে।
শোকের ছায়া
তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একজন সাহসী ছাত্রনেতা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, সংসদীয় রাজনীতির অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব এবং গণমানুষের নেতা হিসেবে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।