
শহীদ জিয়ার আদর্শেই আলোকিত বাংলাদেশ: ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, জাতীয়তাবাদ ও আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের অবদানকে স্মরণ করে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। আজ ২৬ মে ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়ীজ ইউনিয়ন (বি ১৮৫) সিবিএ এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের উদ্যোগে এই শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করা হয়।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও স্বাধীনতার ঘোষণা
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বহু আগে থেকেই শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মো: তোয়াহা, শামসুল হক, মনি সিংহ, কেএম ওবায়দুর রহমান, শেখ মুজিবুর রহমান, তাজউদ্দীন আহমদ এবং মাওলানা ভাসানীর মতো জাতীয় নেতাদের দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের মাধ্যমে বাঙালি জাতি স্বাধিকার আন্দোলনের দিকে এগিয়ে যায়। কিন্তু ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী নিরীহ ও নিরস্ত্র মানুষের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালালে দেশ এক চরম সংকটের মুখে পড়ে।
এমন এক দিশেহারা মুহূর্তে, ১৯৭১ সালের ২৭শে মার্চ হঠাৎ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মেজর জিয়াউর রহমান বীরত্বের সাথে ‘বাংলাদেশ’ নামক স্বাধীন রাষ্ট্রের ঘোষণা দেন। তাঁর এই ঘোষণা কোটি কোটি মানুষের মাঝে আশার আলো সঞ্চার করে এবং মানুষ গেরিলা যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু করে। শহীদ জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণায় অনুপ্রাণিত হয়েই পরবর্তীতে দেশের সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিডিআর, পুলিশ ও বেসামরিক বাহিনীর সমন্বয়ে মুক্তিবাহিনী গঠিত হয় এবং দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে।
যুদ্ধ-পরবর্তী সংকট ও সিপাহী বিপ্লব
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার পর দেশে খাদ্যের অভাব, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দেয়। ১৯৭৫ সালের আগস্ট মাসে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশ যখন চরম অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হচ্ছিল, তখন বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে দেশনায়ক হিসেবে আবির্ভূত হন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। তিনি দেশে ফিরে সর্বাগ্রে রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন এবং খাদ্যের সংস্থানে মনোযোগ দেন।
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে ‘বাঙালী’ পরিচয়ের পরিবর্তে সমন্বিত ‘বাংলাদেশী’ জাতীয়তাবাদের দর্শন প্রবর্তন করেন এবং ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠন করেন। তিনি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেন এবং দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূচনা করেন।
কৃষি ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটাতে তিনি বিখ্যাত ‘খাল খনন কর্মসূচি’ চালু করেন, যার ফলে দেশ দ্রুত খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা লাভ করে। শিক্ষার প্রসারে ‘শিক্ষা বিপ্লব’, শিশুদের মেধা বিকাশে ‘নতুন কুঁড়ি’ অনুষ্ঠান এবং শিশু একাডেমি প্রতিষ্ঠা তাঁর দূরদর্শী চিন্তারই ফসল। এছাড়াও বেকার যুবকদের জন্য বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি চালু এবং প্রথম বিদেশে মাছ ও তরি-তরকারি রপ্তানি শুরু করার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে মজবুত ভিত্তি এনে দেন তিনি। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সাথে সমতলের মানুষের মেলবন্ধন তৈরিতেও তাঁর ভূমিকা ছিল অনন্য।
আদর্শের ধারাবাহিকতা ও অঙ্গীকার
বক্তারা দৃঢ়তার সাথে ব্যক্ত করেন, শহীদ জিয়ার মৃত্যুর ৪৫ বছর পরও বাংলাদেশের মানুষ তাঁর দর্শনকে মনে-প্রাণে ধারণ করে আছে। তাঁরই আদর্শিক ধারাবাহিকতায় তাঁর সহধর্মিণী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমানে তাঁর সুযোগ্য পুত্র জনাব তারেক রহমান দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে দেশ গঠনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আজকের দিনে জনগণের ভোটে বিজয়ী হয়ে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে বুকে ধারণ করে দেশকে সুখী ও সমৃদ্ধশালী করে গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
উপস্থিতি ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপনে

মো: মিরাজ হোসেন সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়ীজ ইউনিয়ন (বি ১৮৫) সিবিএ
সদস্য, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দল, আহ্বায়ক কমিটি
সদস্য, বিলস
যুগ্ম সম্পাদক, বাংলাদেশ ব্যাংকস এমপ্লয়ীজ ফেডারেশন।
তারিখ: ২৬/০৫/২০২৬