
বিশ্ব বাণিজ্যের নেপথ্যের নায়কদের সম্মান জানিয়ে বিআইডব্লিউটিসিতে বিশ্ব নাবিক দিবস পালন
বিশ্ব অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে নাবিকদের অবদান অনন্য। প্রতিকূল আবহাওয়া, দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা, জীবনের ঝুঁকি এবং পরিবার-পরিজন থেকে দীর্ঘ সময় দূরে থেকেও নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করেন তারা। তাদের এই ত্যাগ, সাহস ও পেশাগত নিষ্ঠার স্বীকৃতি দিতেই প্রতি বছর ২৫ জুন বিশ্বব্যাপী পালিত হয় বিশ্ব নাবিক দিবস (Day of the Seafarer)। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (IMO)-এর উদ্যোগে ২০১০ সাল থেকে দিবসটি আন্তর্জাতিকভাবে উদযাপিত হলেও ২০০৭ সাল থেকেই এর প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু হয়।

বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ পণ্য পরিবহন সম্পন্ন হয় নৌপথে। এই বিশাল সরবরাহ ব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি বিশ্বের লাখো নাবিক। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৫ লাখ নাবিক কর্মরত রয়েছেন। বাংলাদেশের সমুদ্রগামী নৌযানে প্রায় ১৬ হাজার এবং অভ্যন্তরীণ নৌপথে প্রায় দেড় লাখ নাবিক দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)-এর প্রায় ১,৫০০ জন নাবিক দেশের ফেরি, যাত্রীবাহী, মালবাহী ও তেলবাহী নৌযান পরিচালনার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি ও জনজীবন সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।
নাবিকদের এই অসামান্য অবদানকে সম্মান জানাতে বিআইডব্লিউটিসিতে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্ব নাবিক দিবস উদযাপন করা হয়। ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো এ আয়োজন শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিআইডব্লিউটিসির মেরিন বিভাগের তত্ত্বাবধানে এবং বিমা-এর সহযোগিতায় বর্ণাঢ্য কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিআইডব্লিউটিসির পরিচালক (প্রশাসন) মো. রবিউল আলম (যুগ্ম সচিব)। সভাপতিত্ব করেন পরিচালক (কারিগরি) ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ হাসেমুর রহমান চৌধুরী। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন মহাব্যবস্থাপক (মেরিন) ক্যাপ্টেন বাপ্পি কুমার অধিকারী।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন পরিচালক (অর্থ) শেখ মুহাম্মদ নাসিম, চিফ পার্সোনেল ম্যানেজার ফজলে রাব্বি, চিফ পারচেজ অফিসার মানসুরা বেগম, বিমার সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম, নৌ-কারিগরি সদস্য সচিব আলমগীর হোসেন, এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সেক্রেটারি আলাউদ্দিনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা।
প্রধান অতিথি ও সভাপতির বক্তব্যে বলা হয়, বিশ্ব অর্থনীতি, শিল্প, বাণিজ্য এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা সচল রাখতে নৌপরিবহন খাতের অবদান অপরিসীম। আর এই খাতের প্রকৃত নায়ক নাবিকরা—যারা প্রতিকূল পরিবেশ ও সীমাহীন ঝুঁকি মোকাবিলা করে নিরবচ্ছিন্নভাবে পণ্য ও সেবা পরিবহন নিশ্চিত করেন। তাদের শ্রম, সাহস, পেশাদারিত্ব এবং আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।
অনুষ্ঠানে অসাধারণ সাহসিকতা ও দায়িত্বশীলতার স্বীকৃতি হিসেবে দুইজন মাস্টার অফিসারের হাতে BIWTC Exceptional Bravery Award-2026 তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিশ্ব নাবিক দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন ও অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহকারী মহাব্যবস্থাপক (মেরিন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশের নৌপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, নিরাপদ ও দক্ষ করে তুলতে নাবিকদের কল্যাণ, প্রশিক্ষণ এবং কর্মপরিবেশ উন্নয়নে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা প্রয়োজন। নাবিকদের সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত হলেই দেশের নৌপরিবহন খাত আরও সমৃদ্ধ হবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে এ খাতের অবদান বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।