
৬
প্
স্কুল মাঠ কেটে মাছের ঘেরের পানি নিষ্কাশনের অভিযোগ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে, পাঠদান ব্যাহত—শিশুদের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চর কাজল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ১৩৪ নম্বর ছোট শিবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠপটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চর কাজল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ১৩৪ নম্বর ছোট শিবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ কেটে মাছের ঘেরের পানি নিষ্কাশনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি সদস্য সবুজ জমাদ্দারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কেটে মাছের ঘেরের পানি নিষ্কাশনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি সদস্য সবুজ জমাদ্দারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এলাকায় স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশনের জন্য বেড়িবাঁধের ভেতরে সরকারিভাবে একটি পাইপ স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু ইউপি সদস্য সবুজ জমাদ্দার প্রভাব খাটিয়ে সেই পাইপের মুখ বন্ধ করে নিজের মাছের ঘের তৈরি করেন। এর ফলে এলাকাজুড়ে কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় এবং বিস্তীর্ণ কৃষিজমি পানির নিচে তলিয়ে যায়।
অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি টানা বৃষ্টিতে তার মাছের ঘের তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে তিনি ১৩৪ নম্বর ছোট শিবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ কেটে গভীর নালা তৈরি করেন। ওই নালার মাধ্যমে মাছের ঘেরের অতিরিক্ত পানি বিদ্যালয় মাঠ দিয়ে নিষ্কাশন করা হচ্ছে। এতে বিদ্যালয়ের মাঠ ও প্রাঙ্গণ পানিতে তলিয়ে গেছে এবং শ্রেণি কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী জানান, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ শুধু খেলাধুলার স্থান নয়; এটি শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মাঠ কেটে গভীর নালা তৈরি হওয়ায় ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা কিংবা চলাচলের সময় দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। পাশাপাশি মাঠে পানি জমে থাকায় শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসা-যাওয়াও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
একজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নিজের ব্যক্তিস্বার্থ রক্ষার জন্য একটি সরকারি বিদ্যালয়ের মাঠ কেটে দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। আমাদের সন্তানরা এখন ঠিকমতো স্কুলে যেতে পারছে না, খেলাধুলাও করতে পারছে না। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সরকারি সম্পদের এমন অপব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, জনপ্রতিনিধি হয়েও জনগণের স্বার্থ রক্ষা না করে ব্যক্তি স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ায় শিশুদের শিক্ষা ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে।
এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, বিদ্যালয়ের মাঠ পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক ও সচেতন মহল।
উল্লেখ্য, অভিযোগগুলো স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে সংযুক্ত করা হবে।