
পাত্রী দেখতে গিয়ে অপহরণ: ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই র্যাবের অভিযানে জীবিত উদ্ধার, গ্রেফতার ৪
দ্বিতীয় বিয়ের জন্য পাত্রী দেখতে গিয়ে অপহরণের শিকার হন এক অটোরিকশা চালক। অপহরণের পর তার পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। পরিবারের কাছ থেকে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে অর্থ আদায় করেও তাকে মুক্তি না দিয়ে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়। তবে অভিযোগ পাওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অপহৃত ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার এবং অপহরণকারী চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১০)।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে র্যাব-১০-এর কেরানীগঞ্জ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান র্যাব-১০-এর ল’ অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সোনালী সেন, পিপিএম-সেবা।
র্যাব জানায়, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তি মো. সুন্দর আলী (৪৬)। তিনি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চর কুন্দলিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন অটোরিকশা চালক। প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর দ্বিতীয় বিয়ের উদ্দেশ্যে গত ১৯ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গোলাম বাজার থেকে রামেরকান্দার উদ্দেশ্যে রওনা হন।
পথিমধ্যে কোনাখোলা হয়ে ধর্মশুর এলাকায় পৌঁছালে কুদ্দুসের নেতৃত্বে চারজন তার গতিরোধ করে। পরে তাকে মারধর করে জোরপূর্বক একটি অটোরিকশায় তুলে রামেরকান্দা বালুর মাঠে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
অপহরণকারীরা ভিকটিমের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকা পাঠানোর জন্য চাপ দেয়। পরে রাত ২টার দিকে তাকে আসামি রাকিবের শুভাঢ্যা এলাকার বাসায় নিয়ে একটি তালাবদ্ধ কক্ষে আটকে রাখা হয়। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে নগদের মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা এবং পরে আত্মীয়দের কাছ থেকে ধার করে আরও ৩৯ হাজার টাকা পাঠালেও তাকে মুক্তি দেওয়া হয়নি।
এ ঘটনায় পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে র্যাব-১০-এর সদর কোম্পানির একটি আভিযানিক দল অভিযান শুরু করে। তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় সোমবার (২০ জুলাই) দুপুর ২টা ৫ মিনিটে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তালাবদ্ধ ঘর থেকে সুন্দর আলীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
এ সময় অপহরণকারী চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন— মো. কুদ্দুস মিয়া (৩৮), মো. জুয়েল রানা ওরফে কুত্তা জুয়েল (৪০), মো. রাকিব হাওলাদার (২৬) এবং মো. অপু মীর ওরফে বায়েজিদ (৩৫)।
র্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। কুদ্দুসের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতি ও অস্ত্র মামলাসহ চারটি, জুয়েল রানার বিরুদ্ধে পাঁচটি মাদক মামলা, রাকিবের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতির একটি মামলা এবং অপু মীরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ডাকাতির প্রস্তুতি ও নারী-শিশু নির্যাতনের অভিযোগে মোট চারটি মামলা রয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে র্যাব জানায়, “বাংলাদেশ আমার অহংকার”—এই মূলমন্ত্রে বিশ্বাস রেখে র্যাব সবসময় অপরাধ দমন, অপহরণ প্রতিরোধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।