
নারায়ণগঞ্জে বিআইডব্লিউটিসির সম্পদ পরিদর্শনে চেয়ারম্যান ড্যানী
অব্যবহৃত জমি-স্থাপনা কাজে লাগিয়ে আয় বাড়ানোর উদ্যোগ, উন্নয়নের প্রত্যাশায় শ্রমিক-কর্মচারীরা
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)-এর অব্যবহৃত ও সম্ভাবনাময় সম্পদকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগিয়ে সংস্থার আয় বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান এ টি এম আব্দুল বারী ড্যানী। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই মাঠপর্যায়ে সরেজমিনে সম্পদের অবস্থা পরিদর্শন এবং সম্ভাবনা যাচাইয়ের মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণের যে উদ্যোগ তিনি নিয়েছেন, তা কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি করেছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দিনব্যাপী নারায়ণগঞ্জে বিআইডব্লিউটিসির বিভিন্ন অফিস, জমি ও স্থাপনা পরিদর্শন করেন চেয়ারম্যান। এ সময় তিনি সংস্থার অব্যবহৃত ও সম্ভাবনাময় সম্পদ চিহ্নিত করে সেগুলো যথাযথভাবে ব্যবহার, উন্নয়ন এবং আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পরিদর্শনকালে চেয়ারম্যান পর্যায়ক্রমে বিআইডব্লিউটিসির নিতাইগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়, বেইজঘর, বহর অফিস, কয়লা ঘাট, গোকচর জমি, হাজীগঞ্জ বাংলো, ঈসা খাঁ বাংলো, সিরাজউদ্দৌলা রোডের অফিস ও জমি এবং গোদনাইলের সুস্তারী জমি পরিদর্শন করেন।
প্রতিটি স্থাপনা ও জমির বর্তমান অবস্থা, ব্যবহার, সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি। শুধু সম্পদ সংরক্ষণ নয়, বরং পরিকল্পিত ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের মাধ্যমে এসব সম্পদ থেকে কীভাবে সংস্থার আয় বাড়ানো যায়, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন চেয়ারম্যান।
চেয়ারম্যান এ টি এম আব্দুল বারী ড্যানী বলেন, বিআইডব্লিউটিসির নিজস্ব জমি ও স্থাপনাগুলো দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকা উচিত নয়। সম্ভাবনাময় সম্পদগুলো চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এর মাধ্যমে একদিকে সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে সংস্থার নিজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পদ জনগণের সম্পদ। তাই এসব সম্পদের সর্বোচ্চ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে অব্যবহৃত জমি ও স্থাপনাকে আয়বর্ধক সম্পদে পরিণত করতে হবে।
এর আগে বহর অফিস ও নিতাইগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ে চেয়ারম্যান পৌঁছালে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। পরে তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
চেয়ারম্যানের উদ্যোগে আশাবাদী শ্রমিক-কর্মচারীরা
বিআইডব্লিউটিসিতে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের অনেকেই মনে করছেন, সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করলে এবং চেয়ারম্যানকে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করলে সংস্থার দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
তাদের মতে, ব্যক্তিস্বার্থ কিংবা গুটিকয়েক ব্যক্তির স্বার্থকে প্রাধান্য না দিয়ে দেশের ও জনগণের স্বার্থকে সামনে রেখে কাজ করতে হবে। কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকরা ঐক্যবদ্ধভাবে চেয়ারম্যানের পাশে দাঁড়ালে তাঁর হাত আরও শক্তিশালী হবে এবং উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের পথও সহজ হবে।
শ্রমিকদের ভাষ্য, দায়িত্ব গ্রহণের পর চেয়ারম্যানের সরেজমিনে বিভিন্ন সম্পদ পরিদর্শন এবং সম্ভাবনাময় জায়গাগুলোকে আয়বর্ধক কাজে ব্যবহারের বিষয়ে গুরুত্বারোপ ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। তারা মনে করেন, একজন চেয়ারম্যান যখন মাঠপর্যায়ে গিয়ে সরাসরি সম্পদের অবস্থা দেখেন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে উন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন, তখন তা প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাঁর দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতারই বহিঃপ্রকাশ।
তাদের প্রত্যাশা, চেয়ারম্যান এ টি এম আব্দুল বারী ড্যানীর নেতৃত্বে বিআইডব্লিউটিসির অব্যবহৃত সম্পদগুলো পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানো গেলে সংস্থার নিজস্ব আয় বাড়বে এবং আর্থিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রত্যাশা
শ্রমিক-কর্মচারীরা মনে করেন, উন্নয়নের পাশাপাশি সংস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দায়িত্বশীলতার পরিবেশ আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। সবাই যদি অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে নিজ নিজ দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেন, তাহলে বিআইডব্লিউটিসিকে আরও আধুনিক, দক্ষ ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়া সম্ভব।
তাদের ভাষ্য, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিস্বার্থ নয়—দেশ ও জনগণের স্বার্থই হওয়া উচিত প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে চেয়ারম্যানকে সহযোগিতা করা কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিক সবার দায়িত্ব।
নিরাপদ যাত্রীসেবায় নতুন প্রত্যাশা
বিআইডব্লিউটিসির শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রত্যাশা, চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে সংস্থার উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি যাত্রীসেবার মানও আরও উন্নত হবে। বিশেষ করে নৌপথে নিরাপদ, মানসম্মত ও নির্ভরযোগ্য যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তারা আশা করছেন।
তাদের মতে, বিআইডব্লিউটিসির বিশাল সম্পদ, জনবল ও সক্ষমতাকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো গেলে প্রতিষ্ঠানটি দেশের অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহনে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আর এ ক্ষেত্রে চেয়ারম্যানের মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা ও উন্নয়নমুখী চিন্তাভাবনা ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা বিআইডব্লিউটিসির বিপুল পরিমাণ জমি ও স্থাপনা দীর্ঘদিনের অব্যবহৃত সম্পদ হিসেবে পড়ে না রেখে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন করা গেলে নতুন আয়ের ক্ষেত্র তৈরি হবে। এতে একদিকে সংস্থার আর্থিক সক্ষমতা বাড়বে, অন্যদিকে জনগণের অর্থে গড়ে ওঠা সম্পদও কার্যকরভাবে জনগণের কল্যাণে ব্যবহৃত হবে।
পরিদর্শনকালে চেয়ারম্যানের সঙ্গে ছিলেন বিআইডব্লিউটিসির পরিচালক (প্রশাসন) মো. রবিউল আলম, পরিচালক (বাণিজ্য) এস এম আশিকুজ্জামান, মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) জেসমিন আরা বেগম, নির্বাহী প্রকৌশলী (পূর্ত) সোয়াত হোসেনসহ সংস্থার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে শ্রমিক-কর্মচারীরা বলেন, সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিআইডব্লিউটিসিকে এগিয়ে নিতে হলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে সেই পরিবর্তনের প্রত্যাশাই এখন তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।