বিজেএমসির বিরুদ্ধে অবৈধভাবে রেস্টুরেন্ট বন্ধের অভিযোগ, কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি
বিশেষ প্রতিবেদক:
মতিঝিলের ৯৯ করিম চেম্বারে অবস্থিত 'ক্রীম অ্যান্ড ক্রাস্ট মেট্রো রেস্টুরেন্ট' অন্যায় ও বেআইনিভাবে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) বিরুদ্ধে। সম্পূর্ণ ভাড়া পরিশোধ করার পরও ভবনের বিদ্যুৎ-পানি বিচ্ছিন্ন করা এবং বিনা নোটিশে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার কারণে কয়েক কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি ও ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে দাবি রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের।

চুক্তি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে বিজেএমসি ভবনের নিচতলায় ১,৩৪২ বর্গফুট জায়গায় সঞ্জয় কুমার রায় ও ড. এম এ মতিন, সাবেক মহাপরিচালক পল্লী উন্নয়ন একাডেমী বগুড়া, যৌথ ভাবে ব্যবসা পরিচালনা শুরু করেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল আরও ১,০৪৫ বর্গফুট বর্ধিত অংশ ভাড়া নেওয়া হয়। তবে বর্ধিত অংশের সেপটিক ও সুয়ারেজ লাইনের দুর্গন্ধ এবং ছাদের পানি পড়ার কারণে ব্যবসা বাধাগ্রস্ত হলে বারবার বিজেএমসিকে লিখিত নোটিশ দিয়েও কোনো প্রতিকার মেলেনি।
অভিযোগ উঠেছে, বকেয়া ভাড়ার অজুহাতে গত ২৫ জুন বিকেল চারটায় কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ কেটে দেয়। ফলে ফ্রিজে থাকা বিপুল পরিমাণ মাছ-মাংস ও খাদ্যসামগ্রী পচে গিয়ে লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়। পরবর্তীতে ১০ জুলাই অতিবৃষ্টির পানি রেস্টুরেন্টে ঢুকে পরিষেবা বন্ধ থাকায় তা পরিষ্কার করা সম্ভব হয়নি, যা আসবাবপত্রসহ পুরো রেস্টুরেন্টের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।
হিসাব অনুযায়ী, মূল ১,৩৪২ বর্গফুট অংশের জন্য ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত পাওনা ৭০,৩৪,৬৪৬ টাকার বিপরীতে রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ পরিশোধ করেছে ৭০,৪৬,৯০৮ টাকা। এছাড়া নিরাপত্তা জামানত হিসেবে আরও ৭,৪৪,৮১০ টাকা জমা রয়েছে। অপরদিকে সমস্যার সমাধান না হওয়ায় ১,০৪৫ বর্গফুটের বর্ধিত অংশের ভাড়ার জন্য ২৩,৪১,৮৪৫ টাকার পাওনার বিপরীতে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ২ লাখ টাকা জমা দিয়ে ভাড়ার যৌক্তিক সমাধান চাওয়া হয়েছিল।
সর্বশেষ ১৯ আগস্ট বিকেল চারটায় পানি নেমে যাওয়ার পর রেস্টুরেন্ট চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হলে বিজেএমসি কর্তৃপক্ষ কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই প্রধান ফটকে নিজস্ব তালা ঝুলিয়ে দেয়।
ব্যবসায়ী সঞ্জয় রায় বলেন, "চার বছরে জামানতসহ প্রায় এক কোটি টাকা পরিশোধ করার পরও আমাদের কোনো সুযোগ না দিয়ে অন্যায়ভাবে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
আইনি উপায়ে ভাড়া-সংক্রান্ত বিরোধ মিটিয়ে দ্রুত রেস্টুরেন্টটি পুনরায় চালুর সুব্যবস্থা করার জোর দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত মালিকপক্ষ।