মাঠের রাজনীতি থেকে বঙ্গভবন: মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার পরিণতি
ছাত্রজীবনের রাজনীতি থেকে শুরু করে শিক্ষকতা, সরকারি চাকরি, পৌরসভার চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী, বিএনপির মহাসচিব—দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পেরিয়ে এবার রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

১৯৪৮ সালে ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম নেওয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক পথচলার শুরু ছাত্রজীবনেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি পড়ার সময় তিনি ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। পরবর্তী সময়ে শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরিতে থাকলেও রাজনীতির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়নি। ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরেন তিনি। ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পান।
২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। বিএনপি সরকারের সময়ে কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।
এরপর বিএনপির সাংগঠনিক রাজনীতিতে ধাপে ধাপে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে উঠে আসেন ফখরুল। ২০০৯ সালে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং ২০১১ সালে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান। দীর্ঘ পাঁচ বছর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব থাকার পর ২০১৬ সালে বিএনপির মহাসচিব নির্বাচিত হন।

তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম আলোচিত অধ্যায় ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েও তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। বিএনপির সিদ্ধান্ত ও নির্বাচনের অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে তাঁর এই সিদ্ধান্ত তখন ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকটের সময় দলের নেতৃত্বের অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে ওঠেন মির্জা ফখরুল। খালেদা জিয়ার কারাবাস, তারেক রহমানের দেশের বাইরে অবস্থান এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতিকূলতার সময়ে দেশে থেকে দলের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন তিনি। বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সামনে থেকে থাকার পাশাপাশি রাজনৈতিক কারণে তাঁকে একাধিকবার কারাবরণও করতে হয়েছে।
দীর্ঘ এই রাজনৈতিক পথচলার পর ২০২৬ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নতুন সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। আর এবার আরও বড় রাজনৈতিক অধ্যায়—সংসদে ভোটে তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি

২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফ
খরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছেন ২৫৫ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ওলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে শুক্রবার।
একসময় যিনি মাঠের রাজনীতি থেকে দলের দুর্দিনে নেতৃত্ব দিয়েছেন, ২০১৮ সালে নির্বাচিত হয়েও সংসদে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক পথচলা এবার এসে পৌঁছেছে বঙ্গভবনে।
মাঠের রাজনীতি থেকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ—মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিযাত্রার নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে এখান থেকেই।