তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে পরিবেশগত ন্যায়বিচার ও পানি নিরাপত্তার ওপর গুরুত্বারোপ
ঢাকা, ৪ জুলাই ২০২৬: তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, পরিবেশগত ন্যায়বিচার, পানি নিরাপত্তা এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বক্তারা।
রাজধানীতে Dialogue for Development Bangladesh আয়োজিত “তিস্তা মহাপরিকল্পনা: আঞ্চলিক সহযোগিতা, পানি নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নের নতুন দিশা” শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, তিস্তা শুধু একটি নদী নয়, এটি বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, পরিবেশ এবং অর্থনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ হলেও উজানের পানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তিস্তার মতো আন্তঃসীমান্ত নদীর ব্যবস্থাপনায় চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। পানি কেবল একটি সম্পদ নয়, বরং এটি ভূরাজনৈতিক ও কৌশলগত বিষয় হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। তাই তিস্তা ইস্যুকে জাতীয় স্বার্থ, খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষার সঙ্গে সমন্বয় করে দেখতে হবে।
আলোচনায় আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক নদী ব্যবস্থাপনায় সমতা, ন্যায্যতা এবং ১৯৯৭ সালের UN Watercourses Convention-এর Equitable Utilization ও No Significant Harm নীতির কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তিস্তা মহাপরিকল্পনার পূর্ণাঙ্গ পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (Environmental Impact Assessment) প্রকাশ এবং জনঅংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, উন্নয়নের নামে কোনো জনগোষ্ঠীর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা যাবে না। তিস্তা অববাহিকার কৃষি, জীববৈচিত্র্য, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ এবং স্থানীয় মানুষের অধিকার রক্ষার বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
আলোচনা শেষে বক্তারা তিনটি সুপারিশ তুলে ধরেন— তিস্তা পানিচুক্তিকে সমঅধিকারভিত্তিক রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকারে উন্নীত করা, তিস্তা মহাপরিকল্পনার পূর্ণাঙ্গ পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন প্রকাশ ও জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা এবং জাতীয় পর্যায়ে একটি সমন্বিত Water Sovereignty Doctrine প্রণয়ন করা, যাতে আন্তঃসীমান্ত নদী, পানি নিরাপত্তা, কৃষি ও জলবায়ু অভিযোজনকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা যায়।