জনতা ব্যাংকে জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালিত: আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল
বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান ঘোষক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বীর উত্তম-এর ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে জনতা ব্যাংক পিএলসি’র জিয়া পরিষদ ইউনিট কমিটির উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২২ জুন ২০২৬) বিকাল ৪টায় রাজধানীর মতিঝিলে জনতা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সিবিএ অফিসের ৪র্থ তলায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জনতা ব্যাংক জিয়া পরিষদ আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক মনির হোসেনের সভাপতিত্বে সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. মোঃ আব্দুল লতিফ, চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত), জিয়া পরিষদ এবং উপাচার্য, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ ওবায়েদুল হক, ভাইস চেয়ারম্যান; আব্দুল্লাহিল মাসুদ; অধ্যাপক আব্দুল কালাম আজাদ; কৃষিবিদ মোঃ মনোয়ারুল ইসলাম, যুগ্ম মহাসচিব, জিয়া পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি; শেখ মোঃ আব্দুল কুদ্দুসসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব মোঃ মনছুর রহমান।
আলোচনা সভায় বক্তারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রগঠন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে তাঁর অসামান্য অবদানের কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় তিনি দেশের দায়িত্ব গ্রহণ করে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করেন।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তনের মাধ্যমে দেশে রাজনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে পুনরুজ্জীবিত করেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তিনি উৎপাদনমুখী নীতি গ্রহণ, বেসরকারি খাতকে উৎসাহ প্রদান এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে ভেঙে পড়া অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করেন। আত্মনির্ভরশীলতার ধারণাকে গুরুত্ব দিয়ে দেশকে স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে নেন।
কৃষিখাতে তাঁর উদ্যোগের ফলে সেচব্যবস্থা উন্নয়ন, উচ্চফলনশীল বীজের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং কৃষকদের সহায়তা নিশ্চিত হয়, যার ফলে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি ‘গ্রাম সরকার’ ধারণার মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে গ্রামীণ উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করেন।
পররাষ্ট্রনীতিতেও তিনি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন। মুসলিম বিশ্ব, পশ্চিমা দেশ ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি স্বতন্ত্র অবস্থানে নিয়ে যান।

সভা শেষে জনতা ব্যাংক পিএলসি’র জিয়া পরিষদের ১২১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করা হয়। এতে সাইফুল আবেদীন সেলিম (এসপিও) কে সভাপতি এবং মোঃ হাফিজুর রহমান (প্রিন্সিপাল অফিসার) কে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।